india bans chinese cctv: ১ এপ্রিল থেকে এই সিসিটিভি ক্যামেরাগুলো ভারতে আর বিক্রি হবে না। CCTV কেনার আগে সতর্ক হোন!

India Bans Chinese Cctv: নিরাপত্তার ঢাল তুলে চীনা সিসিটিভিকে বাজার থেকে সরাচ্ছে ভারত

১লা এপ্রিল ২০২৬ থেকে যেকোনো ইন্টারনেট-সংযুক্ত সিসিটিভি ক্যামেরা বিক্রির আগে সরকার নির্ধারিত STQC সার্টিফিকেশন বাধ্যতামূলক হয়ে যাবে। এই সার্টিফিকেশন ছাড়া ক্যামেরা বাজারে রাখা যাবে না। যে ব্র্যান্ডগুলো এই পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে পারবে না বা পরীক্ষায় অংশ নেবে না, তাদের জন্য ভারতের বিশাল বাজারে আর ব্যবসা করার সুযোগ থাকছে না। এই সিদ্ধান্তের কেন্দ্রে রয়েছে মূলত চীনা প্রযুক্তির প্রতি দীর্ঘদিনের নিরাপত্তা উদ্বেগ। হিকভিশন এবং দাহুয়া টেকনোলজি এখন পর্যন্ত ভারতের বাজারে সিসিটিভি সরবরাহের সবচেয়ে বড় অংশ নিয়ন্ত্রণ করত। টিপি-লিঙ্কও স্মার্ট হোম সেগমেন্টে যথেষ্ট প্রভাব রেখেছিল। এই নিয়মটি তাদের ব্যবসার ওপর সরাসরি আঘাত করবে।

india bans chinese cctv:  নিরাপত্তার ঢাল তুলে চীনা সিসিটিভিকে বাজার থেকে সরাচ্ছে ভারত
                                                                       india bans chinese cctv: নিরাপত্তার ঢাল তুলে চীনা সিসিটিভিকে বাজার থেকে সরাচ্ছে ভারত

এই বিষয়টি আচমকা নয়। ২০২১ সালে সরকারের নজরে আসে যে দেশের জনসাধারণের ব্যবহারে থাকা অসংখ্য সিসিটিভি ক্যামেরার উৎস চীনা প্রস্তুতকারীরা। প্রশ্ন ওঠে, এই ক্যামেরাগুলোর মাধ্যমে সংগ্রহ করা ডেটা আসলে কোথায় যাচ্ছে এবং বিদেশি সার্ভার থেকে সেগুলো অ্যাক্সেস করার সুযোগ আছে কি না। সেই সময় থেকে বিভিন্ন সরকারি দপ্তর ও নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা ক্রমাগত এ বিষয়ে সতর্ক করে আসছিলেন। ২০২৪ সালে সিসিটিভি ডিভাইসগুলোকে আরও কঠোর নিয়মের আওতায় আনা হয়। সেই পদক্ষেপের ধারাবাহিকতায় এবার বাধ্যতামূলক সার্টিফিকেশনের বিধান চালু হচ্ছে। অর্থাৎ, এটি কোনো তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া নয়, বরং কয়েক বছর ধরে তৈরি হওয়া একটি কাঠামোবদ্ধ নীতির পরিণতি। সার্টিফিকেশন না থাকলে বিক্রি নেই। কোনো ব্যতিক্রম নেই, কোনো ছাড় নেই।

STQC পরীক্ষা আসলে কী যাচাই করে

india bans chinese cctv: STQC মানে Standardisation Testing and Quality Certification। এটি শুধু দেখে না যে ক্যামেরাটি কাজ করছে কি না। এই পরীক্ষায় ডিভাইসের ভেতরের ফার্মওয়্যার, ডেটা এনক্রিপশনের মান, অননুমোদিত প্রবেশ ঠেকানোর ক্ষমতা এবং হার্ডওয়্যারের উৎস পর্যন্ত খতিয়ে দেখা হয়। যেহেতু এই ক্যামেরাগুলো IoT ডিভাইস হিসেবে কাজ করে, তাই সেগুলো কীভাবে ইন্টারনেটে তথ্য পাঠায় এবং বাইরে থেকে সেগুলো নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব কি না, সেটাও পরীক্ষার আওতায় পড়ে। স্থানীয়ভাবে একত্রিত করা পণ্যও এই প্রক্রিয়া থেকে ছাড় পাবে না।

যে ব্র্যান্ডগুলো আগে বাজারের সিংহভাগ ধরে রেখেছিল, তারা এখন হয় পিছিয়ে যাচ্ছে, না হয় নতুন করে তাদের ব্যবসার কৌশল ঢেলে সাজানোর চেষ্টা করছে। স্মার্ট ডিভাইসগুলি শাওমি ও রিয়েলমিও তাদের ব্যবসা কমিয়ে এনেছে, কারণ এই নতুন বিধি মেনে চলা তাদের জন্য জটিল ও ব্যয়বহুল হয়ে পড়েছে। এই খালি বাজার পূরণ করছে ভারতীয় কোম্পানিগুলো। Qubo, CP Plus, Prama, Matrix Comsec এবং Sparsh CCTV এখন বাজারের বড় অংশ নিজেদের মুঠোয় নিচ্ছে।

যে কেউ এখন সিসিটিভি কিনতে চাইলে সার্টিফিকেশনের বিষয়টি সবার আগে মাথায় রাখতে হবে। একটি ইন্টারনেট-সংযুক্ত ক্যামেরা সর্বদা ডেটা পাঠায় বা সংরক্ষণ করে। ফলে নিরাপত্তা নিশ্চিত করাটা একটি অতিরিক্ত বিষয় নয়, এটি কেনাকাটার মূল শর্তের মধ্যেই পড়ে। বাড়ির জন্য Qubo ও CP Plus বিভিন্ন অ্যাপ সাপোর্ট ও স্মার্ট হোম ইন্টিগ্রেশনসহ 2,500 থেকে 5,000 টাকার মধ্যে একাধিক বিকল্প দিচ্ছে। বড় প্রতিষ্ঠানের জন্য Bosch বা Honeywell সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য বিকল্প হিসেবে বাজারে আছে।

india bans chinese cctv: এটি ভারতের ডিজিটাল পরিকাঠামো রক্ষার একটি বৃহত্তর কৌশলের অংশ। স্মার্ট শহর, রেলস্টেশন, বিমানবন্দর, বাজার থেকে আবাসিক এলাকা, সর্বত্র সিসিটিভির জাল ছড়িয়ে পড়েছে। এই নেটওয়ার্কের নিরাপত্তা নিশ্চিত না হলে তা জাতীয় নিরাপত্তার জন্য দুর্বলতার উৎস হয়ে উঠতে পারে। ভারত সেই ঝুঁকি নিতে রাজি নয়।

আরও পড়ুন: ৩১ মার্চ আসছে Lava Bold N2 Pro 4G, 5000mAh ব্যাটারি, IP54 রেটিং দাম কত হতে পারে?

Website |  + posts

১ বছর ধরে বাংলা কনটেন্ট রাইটার হিসেবে কাজ করছি। প্রযুক্তি, নিউজ ও মোবাইল টেকনোলজি বিষয় নিয়ে কাজ করছি এবং সহজ ভাষায় তথ্যভিত্তিক লেখা প্রকাশ করি।

1 thought on “india bans chinese cctv: ১ এপ্রিল থেকে এই সিসিটিভি ক্যামেরাগুলো ভারতে আর বিক্রি হবে না। CCTV কেনার আগে সতর্ক হোন!”

Leave a Comment