মহাবিশ্বের অদ্ভুত খেলায় সূর্য, পৃথিবী আর চাঁদ এক লাইনে এসে দাঁড়ালে আকাশ হয় রহস্যময়। দোল পূর্ণিমার মঙ্গলবার (৩ মার্চ ২০২৬) এমনই এক দৃশ্যের সাক্ষী হবে পৃথিবী। পূর্ণগ্রাস চন্দ্রগ্রহণ—যা বিরল এবং মন ছুঁয়ে যায়। ভারতের পূর্বাঞ্চল থেকে পুরোপুরি উপভোগ করা যাবে, কলকাতায় মনে ভরে লাল চাঁদ দেখা যাবে। এই নির্মল আকাশের এই দৃশ্য উপভোগ করা উচিত।
দোল পূর্ণিমায় কেন ‘কেঁচো চাঁদ’?
মার্চের প্রথম পূর্ণিমাকে ‘কেঁচো চাঁদ’ (Worm Moon) বলে ডাকা হয়। উত্তর আমেরিকায় বরফ গলে মাটি নরম হলে কেঁচো বেরোয়, পাখিরা ছুটে খেয়ে নেয়। প্রজননের আগে পেট ভরানোর এই সময়ের স্মৃতিতে নামটি। সে কারণে মার্চের প্রথম পূর্ণিমার চাঁদের এই নাম।কলকাতায় চাঁদ উঠবে বিকেল ৫টা ৩৮ মিনিট থেকে ৫টা ৪০মিনিট এর মধ্যে। ততক্ষণে পূর্ণগ্রাস শেষ (৫টা ৩৩ মিনিটে)। তবু চাঁদের ৯১শতাংশ থাকবে গাঢ় লাল ‘ব্লাড মুন’, বাকি ৯শতাংশ আবছা হলুদ। খালি চোখে দিগন্তের দিকে তাকালেই ধরা পড়বে এই জাদু।
পশ্চিমবঙ্গে কোথায় পুরো গ্রহণ দেখবেন?
দার্জিলিং এ বিকেল ৫টা ৩৭ মিনিট থেকে চন্দ্রোদয়ের সাথে গ্রহণ শুরু, চলবে ১ ঘণ্টা ১১ মিনিট।কোচবিহারে ৫টা ৩৩ মিনিট থেকে ১ ঘণ্টা ১৫ মিনিট।মেদিনীপুরে ৫টা ৪৪ মিনিট থেকে ১ ঘণ্টা ৪ মিনিট।মুর্শিদাবাদ এ ৫টা ৩৮ মিনিট থেকে ১ ঘণ্টা ১০ মিনিট।পূর্ব ভারতে তিনসুকিয়া, ডিগবয়ে (আসাম) ৫টা ১৩ মিনিট এ চাঁদ উঠে পুরো গ্রহণ দেখাবে। পশ্চিমে রাজ্যগুলিতে রাজস্থান-গুজরাতে দেখার সম্ভাবনা নেই।
কখন ফিরবে ঝলমলে চাঁদ?
মঙ্গলবার প্রায় ৫ ঘণ্টা চলবে গ্রহণ। সবচেয়ে নাটকীয় অংশ ৫৮ মিনিট ১৫ সেকেন্ড।ভারতীয় সময় অনুসারে মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টা ৪০ পর্যন্ত চলবে প্রচ্ছায়া। তখন মলিন দেখাবে চাঁদকে। চাঁদ বেরোবে ৬টা ৪৭ নাগাদ। উজ্জ্বল চাঁদ ফিরবে ৭টা ৫৩ মিনিটে
কেন দেখবেন এই বিরল দৃশ্য?
মহাজাগতিক বস্তুরা নিজ নিজ পথে ঘোরে, তবু এই সংঘর্ষময় সৌন্দর্য মুহূর্তের। এই দৃশ্য উপভোগ করা উচিত। ভারতে পরের পূর্ণগ্রাস ২০২৮-এর জুলাই মাসে।
3 thoughts on “দোল পূর্ণিমায় পূর্ণগ্রাস চন্দ্রগ্রহণ! কখন, কোথায় দেখা যাবে এই ‘কেঁচো চাঁদ’?”